কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি থানা/উপজেলায় হাসপাতাল থাকলেও মোটামুটি আধুনিক চিকিৎসা সেবার জন্য জনগণকে জেলা সদরে অবস্থিত সদর হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়। দরিদ্র ও সাধারণ জনগণ প্রতিনিয়ত তাদের চিকিৎসা সেবায় এই হাসপাতালের সুষ্ঠু, স্বচছ ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা প্রত্যাশা করে।
হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা : : ১০০ (একশত)।
কর্মকর্তা-কর্মচারী :
ডাক্তার সংখ্যাঃ মোট পদ- ২১টি এর মধ্যে ১২টি পূরণকৃত পদ ও ০৯টি শূন্যপদ।
নার্স সংখ্যাঃ ৩২ জন।
গার্ড, নৈশপ্রহরী, মালী ও জুনিয়র মেকানিক্সঃ সৃষ্ট কোন পদ নেই।
সুইপারঃ ৭ জন।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীঃ মোট পদ সংখ্যা- ৭৪টি এর মধ্যে ৬৮টি কর্মরত ও ০৬ টি শূন্য পদ।
স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মচারী পদঃ ২ (দুই) জন ব্যক্তি নিয়োজিত আছেন যাদের কাছে হাসপাতাল সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।
হাসপাতালের বিভাগঃ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথাঃ ১) বহির্বিভাগ, ২) জরুরি বিভাগ ও ৩) অন্তবিভাগ। জরুরী বিভাগ ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করে কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে হবে। একটি টিকেট ক্রয় করার পর উক্ত টিকেটে যতদিন পর্যন্ত লেখার জন্য ফাঁকা জায়গা থাকবে ততদিন পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যাবে। টাকা খরচ করে নতুন টিকেট নেয়ার প্রয়োজন নাই।
ই. পি. আই : সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত অন্যান্য কার্যদিবস গুলোর প্রতিদিনই ৬টি মারাত্মক রোগের (যক্ষা, পোলিও.... ইত্যাদি) টিকা নিয়মিত প্রদান করা হয়।
ডায়রিয়া বিভাগ : হাসপাতালে আগত ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসার জন্য অফিস চলাকালীন সময়ে ঙ.জ.ঞ কর্ণার চালু থাকে। বেশী অসুস্থ রোগীর জন্য আলাদা ভাবে ডায়রিয়া (সংক্রামক) বিভাগ চালু আছে।
রোগী দেখার সময়ঃ হাসপাতালের অফিস সময়সূচি সকাল ৮.০০টা থেকে দুপুর ২.৩০টা পর্যন্ত। তবে কোন চিকিৎসক বিকালে বা রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন করলে তাকে নির্ধারিত অফিস সময়সূচিতে পাওয়া যাবে না। বহির্বিভাগে রোগী দেখার সময় সকাল ৮.০০ টা থেকে দুপুর ২.৩০টা পর্যন্ত। জরুরী বিভাগে সার্বক্ষণিক ডাক্তার উপস্থিত থাকেন। অন্তর্বিভাগের ডাক্তাররা সকাল ১০.০০টা থেকে ভিজিট শুরু করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে সংরক্ষিত ডিউটি রোস্টার (সিডিউল) অনুযায়ী ডাক্তারগণ দায়িত্ব পালন করেন।
অপারেশনের সময়সূচিঃ জেনরেল সার্জারী-রবিবার ও বুধবার, আর্থোপেডিক- সোমবার ও বৃহস্পতিবার, চক্ষু- মঙ্গলবার, গাইনী- রবিবার ও বুধবার। এছাড়াও জরুরী প্রয়োজনে যেকোনো দিন সিজারিয়ান ও নরমাল ডেলিভারী অপারেশন করা হয়।
অপারেশন ফিঃ
জেনারেল বেডের জন্য === ফ্রি মেজর ----------------------------------------- অন্যান্য রোগীর জন্য === ২০০০/-
জেনারেল বেডের জন্য === ফ্রি মাইনর ----------------------------------------- অন্যান্য রোগীর জন্য === ১০০০/-
যে সমস্ত রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয় :
১. শিশু রোগ============== কনসালটেন্ট(Consultant) চিকিৎসক আছে। ২. চোখ, কান ও গলা’র চিকিৎসা ====== কনসালটেন্ট(Consultant) চিকিৎসক আছে। ৩. হৃদরোগ=============== কনসালটেন্ট(Consultant) চিকিৎসক আছে। ৪. গাইনোলজিকাল ============ কনসালটেন্ট(Consultant) চিকিৎসক আছে।
৫. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা অন্যান্য প্রায় সকল রোগের চিকিৎসা করানো হয়।
পোষ্টমর্টেম, ধর্ষণসহ এ জাতীয় চিকিৎসা সেবা মেডিকো লিগ্যাল আইন অনুযায়ী করানো হয়। তবে এ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ নেই।
দাঁতের চিকিৎসার জন্য কোন চিকিৎসক নেই।
রোগ নির্ণয়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা : এক্স-রে, ই সি জি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষাসহ আনুষাঙ্গিক প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়মিত করা হয়। সিটি স্ক্যান, এম আর আই করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই । ফলে মাথায় আঘাত প্রাপ্ত এবং কিছু জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীকে রংপুর কিংবা ঢাকায় পাঠাতে হয়। সরকারীভাবে কোন Reagent সরবরাহ না থাকায় রক্তের অপেক্ষাকৃত জটিল পরীক্ষা (এইচ আই ভি, হেপাটাইটিস)করা সম্ভব হয় না।
ঔষধ সরবরাহ বিভাগঃ ঔষধ সরবরাহ বিভাগ শুক্রবার ব্যতীত সকাল ৮.০০ থেকে দুপুর ২.৩০মি. পর্যন্ত আউটডোরের রোগীদের ঔষধ সরবরাহ করে থাকে। ঔষধ গ্রহণের পূর্বে ডাক্তরের দেয়া সাদা কাগজে ঔষধের নাম ও স্বাক্ষর বিশেষভাবে লিখে নিন। ঔষধ সরবরাহ বিভাগ প্রদত্ত তালিকা বহির্ভূত ঔষধ বহির হতে কনতে হবে। সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখে মহিলা ও পুরুষ পৃথক কাউন্টার হতে ঔষধ গ্রহণ করুন।
সমাজ কল্যাণ বিভাগ : সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি হাসপাতাল সমাজ সেবা অফিস চালু আছে। এতে প্রতি বছর প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প হলেও কিছু অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। বাড়তি চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্য ও সমাজসেবী মানুষের সমন্বয় ও সহযোগীতায় “রোগী কল্যাণ সমিতি” নামে একটি রেজিষ্টার্ড সমিতি চালু আছে, যার মাধ্যমে হাসপাতালে আগত দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হয়। এছাড়াও অত্র বিভাগে দগ্ধজনীত কারণে ক্ষতিগ্রস্থ, দুঃস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা প্রকল্প চালু আছে। এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন আছে।